editor
প্রকাশিত: 4:18 PM, August 9, 2026
স্টাফ রিপোর্টার:: বিয়ে, বদলি-বাণিজ্য, অফিস ফাঁকি, প্রশিক্ষণে অনিয়ম, সরকারি গাড়ি-জ্বালানির অপব্যবহার থেকে শুরু করে ক্ষমতার দাপট-একটির পর একটি অভিযোগে আলোচনায় সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. নিয়াজুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী সদর মেডিকেল অফিসার ডা. সুবর্ণা রায় তুলি। অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও বিত্তশালীদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে সুবিধা নেওয়া থেকে শুরু করে অধীনস্থদের বদলি ও শোকজে প্রভাব বিস্তার—সব ক্ষেত্রেই রয়েছে তুলির দাপট; আর সেই ক্ষমতার প্রশাসনিক ছায়া হয়ে কাজ করছেন স্বামী নিয়াজুর। ছয় মাসে মাত্র ৩৩ দিন অফিস করা, বদলিতে লাখ লাখ টাকা লেনদেন, সরকারি সুবিধার অপব্যবহার এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের অভিযোগও রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। এমনকি স্ত্রীর অনিয়মিত অফিস করার বিষয়টি আড়াল করতে দাপ্তরিক নিয়ম না মেনে অফিস স্থানান্তরের অভিযোগও উঠেছে ডিডির বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে সিলেট পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রভাব, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের যেন একের পর এক চিত্র সামনে আসছে।
বিয়ে করাই তুলির নেশা, নৈতিক স্খলনে পদাবনতি নিয়াজুরের:
সমাজের উচ্চবৃত্ত ও ধনাঢ্যব্যবসায়ী এবং সিনিয়র অফিসারদের টার্গেট করে হানি ট্র্যাপের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে অর্থ আর সুবিধা নেওয়া যেন নেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে ডা. সুবর্ণা রায় তুলির। এই কাজ করে যেমন নিজের ক্যারিয়ারের উন্নতি ঘটিয়েছেন তেমনি হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকায়। শুধু প্রেম নয়, বিয়ের ফাঁদে ফেলেও অনেককে করেছেন সর্বশান্ত। এই পর্যন্ত তার বৈধ চারটি বিয়ের প্রমাণ রয়েছে এই প্রতিবেদকের হাতে। সর্বশেষ ডা. তুলির হ্যানি ট্র্যাপের খপ্পরে পড়ে মাশুল দিতে হয়েছে বর্তমান স্বামী নিয়াজকেও। দুই সন্তান ও স্ত্রীকে রেখে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে ঘরে তুলতে হয়েছে ডা. তুলিকে। এর মধ্যে নানা নাটকীয়তায় পরিচালক পদ থেকে পদাবনতি হয়ে উপপরিচালকও হতে হয়েছে। অবশ্য নিয়াজের বিরুদ্ধেও রয়েছে একাধিক নারীর সঙ্গে পরকীয়াসহ নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ।
তথ্যমতে, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে পড়াশোনার সময় এক মুসলিম যুবকের সঙ্গে দীর্ঘ প্রেমের পর বিয়ে করলেও পারিবারিক চাপে তা বেশিদিন টিকেনি। এরপর দ্বিতীয়বার বিয়ে করে ডা. অপু নামের আরেক যুবককে। সেই বিয়েও টিকেনি বেশিদিন। এরপর তৃতীয় বিয়েটি নিয়ে ঘটে লঙ্কাকাণ্ড। ২০১৭ সালে সিলেটের নাইওরপুল রামকৃষ্ণ মিশনে যাতায়াতের সূত্রে সাধু গৌতমের সঙ্গে তুলির সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়েও হয় তাদের। কিন্তু তুলির মন কি এক জায়গা বেশিদিন থাকে। তার এই একাধিক বিয়ে আর হানিট্যাপের ঘটনা জানাজানির পর বদলি করা হয় চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। সেখানে যাওয়ার পরে চাঁদপুর জেলা অফিসের সহকারী পরিচালক মো. নিয়াজুর রহমানের সঙ্গে ডা. তুলির ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, কচুয়ায় কর্মরত অবস্থায় নিয়াজের ও ডা. তুলির মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে এ বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে অভিযোগ হলে নিয়াজুর রহমানকে একাধিকবার বদলি ও পদাবনতি করা হয়। পরবর্তীতে বিয়ে করে দুইজনই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের প্রভাবে সিলেটে বদলি হয়ে আসেন।
কাগজে উপপরিচালক নিয়াজ, সব ক্ষমতা তুলির:
অনুসন্ধানকালে জানা যায়, সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক (ডিডি) মো. নিয়াজুর রহমান কাগজে পদে থাকলেও দাপ্তরিক কাজে তার স্ত্রী সদর মেডিকেল অফিসার ডা. সুবর্ণা রায় তুলির প্রভাবই বেশি। তৃতীয় স্বামীর ক্ষমতা ব্যবহার করে অধীনস্থদের শোকজ, ভয়ভীতি ও হয়রানি করার অভিযোগে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তার বিষয়ে আতঙ্ক রয়েছে। তুলি চাঁদপুর, ফেঞ্চুগঞ্জ, সিলেট যেখানে দায়িত্ব পালন করেছেন স্বামীকে ব্যবহার করে অধীনস্থদের হয়রানি করেছেন। কর্মকর্তাদের অনেকেই তাকে এখন‘শোকজ তুলি’ নামে ডাকেন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব অনুযায়ী পরিবার পরিকল্পনা সেবাগ্রহীতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরামর্শ ও আইইউডি-ইমপ্লান্টসহ দীর্ঘমেয়াদি পদ্ধতিতে কারিগরি সহায়তা দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত এসব সেবা বা তদারকি করেন না। বরং সহায়তা চাইতে গেলে কর্মীদের শোকজের হুমকি দেন। অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁর অফিসে উপস্থিতির তুলনায় শোকজের সংখ্যাই বেশি।
স্বামী-স্ত্রীর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ-বদলি ও প্রশিক্ষণ বাণিজ্য, ভুয়া টিএ বিল, সরকারি জ্বালানি ও গাড়ির অপব্যবহার, সরকারি বরাদ্দে অনিয়ম এবং অধীনস্থ কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের মতো নানা অনিয়মে তাঁরা জড়িত। ডা. সুবর্ণা রায় তুলির নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিতি এবং মাঠ পরিদর্শন না করেও সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিকবার অভিযোগের পর তদন্তে তা প্রমাণিত হলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তদন্তে অভিযোগের সত্যতা, বদলি হন ডা. সুবর্ণা রায় তুলি:
ফেঞ্চুগঞ্জে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন ডা. তুলির বিরুদ্ধে সহকর্মী, সিনিয়র চিকিৎসক ও রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পায়। ২০২২ সালে গঠিত তদন্ত কমিটি বিভাগ পরিচালনায় অদক্ষতা, সহকর্মী ও রোগীদের সঙ্গে অসদাচরণ এবং অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ব্যবস্থাপনায় অশোভন আচরণের প্রমাণ পেয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করে। পরবর্তীতে তাকে ফেঞ্চুগঞ্জ থেকে চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় বদলি করা হয়।
অধীনস্থদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ:
তুলির বিরুদ্ধে স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে অধীনস্থ কর্মচারীদের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করার অভিযোগও উঠেছে। একাধিক সূত্রের দাবি, খাদিমপাড়া এফডব্লিউসির আয়া রেশমা বেগম, টুকেরবাজার এফডব্লিউসির আয়া শিল্পী ও সদর অফিসের আয়া রোহেনা বেগম ও এফডব্লিউএ সীমা রাণীএবং মাইজগাঁও এফডব্লিউসির এফডব্লিউভি চায়না তালুকদার সরকারি ডিউটি বাদ দিয়ে ডা. তুলির বাসায় ব্যক্তিগত কাজ করানো হয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, ডিডির প্রশাসনিক প্রভাবের কারণে এসব অভিযোগের পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে সিলেট পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে স্বামী-স্ত্রীর প্রভাব ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
ছয় মাসে অফিস মাত্র ৩৩ দিন:
অনুসন্ধানে পাওয়া যায় ডা. সুবর্ণা রায় তুলির ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে জুন ২০২৬ পর্যন্ত ছয় মাসের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ওই ৬ মাসে তিনি অফিস করেছেন মাত্র ৩৩ দিন। তাও কয়েক ঘণ্টার জন্য। বাকি দিনের মধ্যে ডিডির কার্যালয়ে ৩ দিন এবং মাঠ পরিদর্শনে ছিলেন ৬ দিন। মাসভিত্তিক হিসেব করলে দেখা যায়, ডিসেম্বর ২০২৫-এ ৪/৫ দিন, জানুয়ারিতে ৪ দিন, ফেব্রুয়ারিতে ৬ দিন, মার্চে ৪ দিন, এপ্রিলে ৫ দিন, মে-তে ৫ দিন এবং জুনে ৯ দিন অফিস করেছেন।
৪ লাখ টাকার বদলি-বাণিজ্যের অভিযোগ:
সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে পোস্টিং, বদলি এবং নিয়োগকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সম্প্রতি সরকারি বিধিমালা (বিশেষ করে মহাপরিচালকের অনুমতি ছাড়া এফডব্লিউএ বদলির নিষেধাজ্ঞা) উপেক্ষা করে উপ-পরিচালক স্বামীর মাধ্যমে ঘুসের বিনিময়ে বিভিন্ন কর্মচারীকে বদলি করা হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার দুজন এফডব্লিউএ লরিমা বেগম ও শিরিনা আক্তার বদলির জন্য ডা. সুবর্ণা রায় তুলিকে জনপ্রতি দুই লাখ টাকা করে ঘুস দেন। পরবর্তীতে আরও দুই এফডব্লিউএ সীমা রাণী বণিক ও নাজমুন নাহার লিপির বদলির চেষ্টা করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে তা ভেস্তে যায় এবং লেনদেন করা চার লাখ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন তারা।
বদলি-হয়রানির অভিযোগে বিতর্ক:
অভিযোগ রয়েছে, ডা. সুবর্না রায় তুলির কথিত অনিয়মের প্রতিবাদ করায় সিলেট সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের ইউএফপিএ মো. রেদওয়ান মিয়াকে বদলি করা হয়। একইভাবে মেডিকেল অফিসার ডা. মো. সাদিক মিয়াকে অন্যত্র বদলি করে ওই পদে ডা. তুলিকে আনা হয়। সদর এএফডব্লিউও শাহনেওয়াজ ইয়াসমিনকে শোকজ ও বদলি করা হয় এবং ইউএফপিও আবুল মনসুর আসজাদকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এছাড়া ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে সাবেক এডিসিসি ডা. আব্দুল মান্নান ও ফেঞ্চুগঞ্জের সাবেক ইউএফপিও মো. নাজমুল ইসলাম, ইউএফপিএ মো. জাহাঙ্গীর আলমসহ একাধিক কর্মকর্তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে নেতিবাচক মন্তব্য করে হেয়প্রতিপন্ন করার অভিযোগও উঠেছে।
জ্বালানি ভাউচারে অনিয়মের অভিযোগ:
সরকারি গাড়ির ব্যবহার নিয়েও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ রয়েছে। সূত্র মতে, উপপরিচালকের গাড়িচালক অর্জুন সূত্রধর একই সময়ে একাধিক সরকারি গাড়ির দায়িত্ব পালন করতেন এবং জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়ম করতেন। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ, মীরাবাজারের একটি ফিলিং স্টেশনে ২০২৩ সালের বিস্ফোরণের পর গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার পরও ওই স্টেশন থেকে গ্যাস নেওয়ার নামে ভাউচার দেখানো হয়েছে।
তুলি ব্যবহার করেন সাধারণ পাসপোর্ট, বিদেশ ভ্রমণ নিয়াজের নেশা:
মেডিকেল অফিসার ডা. তুলি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হলেও তথ্য গোপন করে ব্যবহার করেন সাধারণ পাসপোর্ট। এই পাসপোর্টে তিনি দুইবার ইন্ডিয়া ভ্রমণ করেছেন। অন্যদিকে নিয়াজ অফিসিয়াল পাসপোর্ট ব্যবহার করলেও বিদেশ ভ্রমণ যেন তার নেশা। সিনিয়রদের ডিঙিয়ে অস্ট্রেলিয়া, নেদারল্যান্ড, দুবাই, থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশ ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে থাইল্যান্ড ভ্রমণ করেছেন চার বার।
কানাডায় কর্মী, দেশে সরকারি সুবিধা:
আরেকটি অভিযোগ ইউএফপিএ জোনাকী দাশকে ঘিরে। নথি অনুযায়ী, ৫ নভেম্বর ২০২৪ থেকে ১৫ দিনের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি অনুমোদন করা হয়েছিল এবং ছুটির শর্তে স্পষ্ট বলা ছিল—বিদেশে অবস্থানকালে ছুটির মেয়াদ কোনোভাবেই বাড়ানো যাবে না। অভিযোগ হলো, তিনি দীর্ঘ সময় কানাডায় অবস্থান করেও সরকারি সুবিধা পেয়েছেন। এমনকি বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ২ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ফ্রিজ তুলির অফিসে:
সিলেট সদর জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে জরুরি ঔষধ ও ইনজেকশন রাখার জন্য একটি ফ্রিজ বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু ডা. সুর্বণা এই ফ্রিজ ওই কেন্দ্রে না দিয়ে নিজ অফিসে ব্যবহারের জন্য নিয়ে আসেন।
প্রশিক্ষণ, পুরস্কারেও পছন্দের লোক:
প্রশিক্ষণ বাছাই নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ আছে। নথিতে দাবি করা হয়েছে, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতার পরিবর্তে নির্দিষ্ট কিছু পছন্দের কর্মীকে বারবার প্রশিক্ষণে পাঠানো হয়েছে এবং এর বিনিময়ে উপঢৌকন নেওয়া হয়েছে। টুকেরবাজার এফডব্লিউসি’র এসএসিএমও ফাতেমা জাহান সাকিসহ কয়েকজন জেলার বিভিন্ন প্রশিক্ষণে বারবার অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন, ফলে অন্যান্য যোগ্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ অভিযোগ যাচাইয়ে গত দুই বছরের সব প্রশিক্ষণের তালিকা, অংশগ্রহণকারীদের পদ, জ্যেষ্ঠতা, মনোনয়নদাতা, একই ব্যক্তির অংশগ্রহণের সংখ্যা এবং প্রশিক্ষণ বাছাইয়ের লিখিত মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলেই একটি ‘প্যাটার্ন’ বের করা সম্ভব।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস (২০২৬) উদযাপন উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের মতো এবারও পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য ডা. তুলির পছন্দের লোকদের নির্বাচিত করা হয়। গত ১২ জুলাই তাদের সম্মাননা দেওয়া হয়। এমনকি আট মাস ধরে অসুস্থ একজন উপজেলা পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকাকে (এফডব্লিউভি) উপজেলার শ্রেষ্ঠ কর্মী ঘোষণা করা হয়।
চায়নার বদলি ঘিরে স্বামী-স্ত্রীর অস্বস্তি:
ডা. তুলির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত এফডব্লিউভি চায়না তালুকদারের বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ‘পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা অ্যাসোসিয়েশন’-এর সিলেট বিভাগীয় সভাপতি থাকাকালে ক্ষমতার অপব্যবহার, বদলি বাণিজ্য ও আর্থিক অনিয়মে জড়িত ছিলেন।
এছাড়া সহকর্মীদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা আদায়, কর্মস্থলে দায়িত্বে অবহেলা, অন্যকে দিয়ে সরকারি কাজ করিয়ে নিজে বিল গ্রহণ এবং সরকারি কোয়ার্টার নিয়মবহির্ভূতভাবে ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চায়না ও ডা. তুলি দীর্ঘমেয়াদি পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির সেবাগ্রহীতাদের প্রাপ্য যাতায়াত ভাতা না দিয়ে নিজেরাই সেই অর্থ ভোগ করতেন।
স্ত্রীকে বাঁচাতে সদর অফিস স্থানান্তর!
ডা. সুবর্ণা রায় তুলির অনিয়মিত অফিস করার বিষয়টি নিয়ে মাসিক সভাসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হলে তাকে ‘সেফ’ করতে ডিডি মো. নিয়াজুর রহমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত না করেই সিলেট সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের দ্বিতীয় তলার সদর মেডিকেল অফিসার (ক্লিনিক) কার্যালয়টি নগরীর শাহী ঈদগাহে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় স্থানান্তর করেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ রয়েছে, তুলির অফিসে অনুপস্থিতির বিষয়টি আড়াল করতেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারি ঔষধ কেলেঙ্কারি; চার্জশিট, তবু অব্যাহতি:
ফেঞ্চুগঞ্জে সেনাবাহিনীর অভিযানে সরকারি ঔষধ উদ্ধারের ঘটনায় এফডব্লিউভি পাক আক্তার চৌধুরী ও এফডব্লিউএ শিল্পী রাণী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তবে মামলায় চার্জশিট হলেও বিভাগীয় তদন্তে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ডা. তুলি ঘুস নিয়ে তার স্বামী মো. নিয়াজুর রহমানের মাধ্যমে বিভাগীয় তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে ওই দুই কর্মীকে অব্যাহতি পাইয়ে দেন।
সম্পদের হিসাবেও প্রশ্ন:
ডা. সুবর্না রায় তুলির সম্পদ নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন। চাকরির ১০ বছরের মাথায় কয়েক কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন। তথ্যমতে, সাউথইস্ট ব্যাংকের তার দুটি ব্যাংক রয়েছে ৪১ লাখ ৭৪ হাজার ৬১৬ টাকা। এছাড়াও নগদ রয়েছে আরো কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। আর নিয়াজুরের নামে সিরাজগঞ্জসহ নানা স্থানে রয়েছে কোটি টাকার সম্পদ।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি:
সংবাদ প্রকাশের আগে প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সিলেট জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান ও সদর মেডিকেল অফিসার ডা. সুবর্ণা রায় তুলির সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তাঁদের মুঠোফোনে কল ও খুঁদে বার্তার মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. জিনাত রেহানা বলেন, উপপরিচালক মো. নিয়াজুর রহমান ও ডা. সুবর্ণা রায় তুলির বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্বাস্থ্যসেবা খাতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অভিযোগ সহ্য করবে না সরকার।
6 উত্তরা ব্যাংক পিএলসি সিলেট অঞ্চলের উপমহাব্যবস্থাপক ও আঞ্চলিক প্রধান মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার লক্ষ্যে উত্তরা
3 জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাহফুজা সিদ্দিকা বলেছেন, জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাস্তবতার ওপর দাঁড়িয়ে
6 রাজনীতি ও ব্যবসার সুবিধার্থে বহুরূপী সাজে নিজেকে জাহির করার অভিযোগ উঠেছে খাদিমপাড়ার বাসিন্দা শফিকুর রহমান খোকনের বিরুদ্ধে। তিনি খাদিমপাড়া
3 স্টাফ রিপোর্টার:: বিয়ে, বদলি-বাণিজ্য, অফিস ফাঁকি, প্রশিক্ষণে অনিয়ম, সরকারি গাড়ি-জ্বালানির অপব্যবহার থেকে শুরু করে ক্ষমতার দাপট-একটির পর একটি অভিযোগে আলোচনায়
5 গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি: সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার হাজিপুর এওলাটিকর গ্রামে প্রভাবশালী চক্র ও সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকি এবং অন্যায়-অত্যাচারের মুখে প্রাণভয়ে বিদেশে
2 সিলেটের খাদিমপাড়ার অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমণ্ডিত ১৭ একর (প্রায় ৬০ কেদার) জায়গাজুড়ে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসীদের শত কোটি টাকার পর্যটন কেন্দ্র ‘এক্সেলসিয়র
3 সিলেট নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাগরদিঘীরপাড় ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক
3 সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং সীমান্তের লাল মাটি এলাকায় বিজিবি ক্যাম্পের কাছাকাছি একটি শক্তিশালী চোরাচালান ও চাঁদাবাজ চক্র সক্রিয় থাকার